Portal Logo
শনিবার
২২ আগস্ট, ২০২৬

মশার ‘পরিবার পরিকল্পনা’ পদ্ধতি চালু করা জরুরি

মশার ‘পরিবার পরিকল্পনা’ পদ্ধতি চালু করা জরুরি

বিশেষ প্রতিনিধি: মশার উৎপাত যেন দিন দিন বেড়েই চলেছে। ঘরে-বাইরে সর্বত্র মশার দাপটে অতিষ্ঠ সাধারণ জনগন। সন্ধ্যা নামার সঙ্গে সঙ্গে শুরু হয় মশার আক্রমণ। কয়েল, স্প্রে, মশারি কিংবা বৈদ্যুতিক মশা নিধনযন্ত্র—কোনো কিছুতেই যেন পুরোপুরি স্বস্তি মিলছে না। তাই এখন অনেকেই বলছেন, “মশারও পরিবার পরিকল্পনা পদ্ধতি চালু করা দরকার!” মশা যেভাবে দ্রুত বংশবিস্তার করছে তাতে মশা যেন পুরো এলাকা দখল করে ফেলবে। তাই মশার বংশবিস্তার নিয়ন্ত্রণে নিয়মিত জন্মনিয়ন্ত্রন পদ্ধতি চালু বা কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারে। দেশের বিভিন্ন এলাকায় নালা-নর্দমা, ড্রেন, ময়লা-আবর্জনা, পরিত্যক্ত পাত্র, নির্মাণাধীন ভবন ও বিভিন্ন স্থানে জমে থাকা পানিতে মশার বংশবিস্তার ঘটছে। কোথাও কয়েক দিন পানি জমে থাকলেই সেখানে মশার লার্ভা দেখা যাচ্ছে। এসব প্রজননস্থল নিয়মিত পরিষ্কার ও ধ্বংস না করায় মশার সংখ্যা দ্রুত বাড়ছে বলে অভিযোগ সবার। মশা দেখতে ছোট হলেও মানুষের জন্য এর ভয়াবহতা বিশাল। মশা ডেঙ্গু, ম্যালেরিয়া, চিকুনগুনিয়া, জিকা ও ইয়েলো ফিভারের মতো বিভিন্ন রোগ ছড়াতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কেন্দ্র (CDC) মশাকে বিশ্বের সবচেয়ে প্রাণঘাতী প্রাণী হিসেবে উল্লেখ করেছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (WHO) তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে বিশ্বে প্রায় ২৮ কোটি ২০ লাখ মানুষ ম্যালেরিয়ায় আক্রান্ত হন এবং এ রোগে প্রায় ৬ লাখ ১০ হাজার মানুষের মৃত্যু হয়। হিসাব করলে ম্যালেরিয়াতেই প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১ হাজার ৬৭০ জন মানুষের মৃত্যু হয়েছে। অর্থাৎ ক্ষুদ্র এই প্রাণীটির কামড় যে কতটা ভয়ংকর হতে পারে, এই পরিসংখ্যানই তার বড় প্রমাণ। তাই মশার বিরুদ্ধে শুধু মাঝে মধ্যে ফগার বা ওষুধ ছিটিয়ে অভিযান চালালেই হবে না। মশার ‘পরিবার পরিকল্পনা’ অর্থাৎ বংশবিস্তার বন্ধে উৎসস্থল ধ্বংস করাই হতে হবে প্রধান লক্ষ্য। কোথায় পানি জমছে, কোথায় মশার লার্ভা তৈরি হচ্ছে—এসব চিহ্নিত করে নিয়মিত ব্যবস্থা নিতে হবে। শহর কিংবা গ্রামাঞ্চলে বাড়ির আশপাশে পানি জমতে না দেওয়া, ড্রেন-নালা পরিষ্কার রাখা, পরিত্যক্ত বোতল, টায়ার, টব, ডাবের খোসা কিংবা অন্য কোনো পাত্রে পানি জমতে না দেওয়া—এসব বিষয়ে সবাইকে সচেতন হতে হবে। একই সঙ্গে সিটি/পৌরসভা ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নিয়মিত মশার লার্ভা ধ্বংস ও প্রজননস্থল পরিষ্কারে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করতে হবে। একথা রসিকতা মনে হলেও “মানুষের পরিবার পরিকল্পনা না থাকলে যেমন পরিবার বড় হলে বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়, মশার ক্ষেত্রেও একই অবস্থা। মশার পরিবার যত বড় হচ্ছে, মানুষের দুর্ভোগও তত বাড়ছে। তাই আগে মশার পরিবার পরিকল্পনা চলু করা দরকার!” সাধারণ জনগনের দাবি, মশা নিধনের পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি ‘মশার পরিবার পরিকল্পনা কর্মসূচি’ গ্রহণ করে বংশবিস্তার নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। কারণ একটি মশাকে মেরে যতটা লাভ, তার জন্মস্থান ধ্বংস করে হাজার হাজার মশার জন্ম ঠেকাতে পারলে লাভ তার চেয়েও অনেক বেশি

মশার ‘পরিবার পরিকল্পনা’ পদ্ধতি চালু করা জরুরি

মশার ‘পরিবার পরিকল্পনা’ পদ্ধতি চালু করা জরুরি

বিশেষ প্রতিনিধি: মশার উৎপাত যেন দিন দিন বেড়েই চলেছে। ঘরে-বাইরে সর্বত্র মশার দাপটে অতিষ্ঠ সাধারণ জনগন। সন্ধ্যা নামার সঙ্গে সঙ্গে শুরু হয় মশার আক্রমণ। কয়েল, স্প্রে, মশারি কিংবা বৈদ্যুতিক মশা নিধনযন্ত্র—কোনো কিছুতেই যেন পুরোপুরি স্বস্তি মিলছে না। তাই এখন অনেকেই বলছেন, “মশারও পরিবার পরিকল্পনা পদ্ধতি চালু করা দরকার!” মশা যেভাবে দ্রুত বংশবিস্তার করছে তাতে মশা যেন পুরো এলাকা দখল করে ফেলবে। তাই মশার বংশবিস্তার নিয়ন্ত্রণে নিয়মিত জন্মনিয়ন্ত্রন পদ্ধতি চালু বা কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারে। দেশের বিভিন্ন এলাকায় নালা-নর্দমা, ড্রেন, ময়লা-আবর্জনা, পরিত্যক্ত পাত্র, নির্মাণাধীন ভবন ও বিভিন্ন স্থানে জমে থাকা পানিতে মশার বংশবিস্তার ঘটছে। কোথাও কয়েক দিন পানি জমে থাকলেই সেখানে মশার লার্ভা দেখা যাচ্ছে। এসব প্রজননস্থল নিয়মিত পরিষ্কার ও ধ্বংস না করায় মশার সংখ্যা দ্রুত বাড়ছে বলে অভিযোগ সবার। মশা দেখতে ছোট হলেও মানুষের জন্য এর ভয়াবহতা বিশাল। মশা ডেঙ্গু, ম্যালেরিয়া, চিকুনগুনিয়া, জিকা ও ইয়েলো ফিভারের মতো বিভিন্ন রোগ ছড়াতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কেন্দ্র (CDC) মশাকে বিশ্বের সবচেয়ে প্রাণঘাতী প্রাণী হিসেবে উল্লেখ করেছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (WHO) তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে বিশ্বে প্রায় ২৮ কোটি ২০ লাখ মানুষ ম্যালেরিয়ায় আক্রান্ত হন এবং এ রোগে প্রায় ৬ লাখ ১০ হাজার মানুষের মৃত্যু হয়। হিসাব করলে ম্যালেরিয়াতেই প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১ হাজার ৬৭০ জন মানুষের মৃত্যু হয়েছে। অর্থাৎ ক্ষুদ্র এই প্রাণীটির কামড় যে কতটা ভয়ংকর হতে পারে, এই পরিসংখ্যানই তার বড় প্রমাণ। তাই মশার বিরুদ্ধে শুধু মাঝে মধ্যে ফগার বা ওষুধ ছিটিয়ে অভিযান চালালেই হবে না। মশার ‘পরিবার পরিকল্পনা’ অর্থাৎ বংশবিস্তার বন্ধে উৎসস্থল ধ্বংস করাই হতে হবে প্রধান লক্ষ্য। কোথায় পানি জমছে, কোথায় মশার লার্ভা তৈরি হচ্ছে—এসব চিহ্নিত করে নিয়মিত ব্যবস্থা নিতে হবে। শহর কিংবা গ্রামাঞ্চলে বাড়ির আশপাশে পানি জমতে না দেওয়া, ড্রেন-নালা পরিষ্কার রাখা, পরিত্যক্ত বোতল, টায়ার, টব, ডাবের খোসা কিংবা অন্য কোনো পাত্রে পানি জমতে না দেওয়া—এসব বিষয়ে সবাইকে সচেতন হতে হবে। একই সঙ্গে সিটি/পৌরসভা ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নিয়মিত মশার লার্ভা ধ্বংস ও প্রজননস্থল পরিষ্কারে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করতে হবে। একথা রসিকতা মনে হলেও “মানুষের পরিবার পরিকল্পনা না থাকলে যেমন পরিবার বড় হলে বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়, মশার ক্ষেত্রেও একই অবস্থা। মশার পরিবার যত বড় হচ্ছে, মানুষের দুর্ভোগও তত বাড়ছে। তাই আগে মশার পরিবার পরিকল্পনা চলু করা দরকার!” সাধারণ জনগনের দাবি, মশা নিধনের পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি ‘মশার পরিবার পরিকল্পনা কর্মসূচি’ গ্রহণ করে বংশবিস্তার নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। কারণ একটি মশাকে মেরে যতটা লাভ, তার জন্মস্থান ধ্বংস করে হাজার হাজার মশার জন্ম ঠেকাতে পারলে লাভ তার চেয়েও অনেক বেশি

মশার ‘পরিবার পরিকল্পনা’ পদ্ধতি চালু করা জরুরি

মূল পৃষ্ঠায় যান