Logo
শিরোনাম

জাতীয়

সব খবর

গোপালপুরে দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে নগদ অর্থ, ঢেউটিন ও শুকনা খাবার বিতরণ

গোপালপুর (টাঙ্গাইল) উপজেলা সংবাদদাতা: দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত ও অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে সরকার। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর থেকে প্রাপ্ত মানবিক সহায়তার আওতায় টাঙ্গাইলের গোপালপুরে ক্ষতিগ্রস্ত ও অসচ্ছল পরিবারের মাঝে নগদ অর্থ, ঢেউটিন ও শুকনা খাবার বিতরণ করা হয়েছে। সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে এসব সহায়তা বিতরণ করা হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন গোপালপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মনজুরুল মোর্শেদ। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন টাঙ্গাইল-২ (গোপালপুর-ভূঞাপুর) আসনের জাতীয় সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আব্দুস সালাম পিন্টু। তিনি বক্তব্য রাখার পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত ও অসহায় পরিবারের সদস্যদের হাতে সরকারি বরাদ্দের মানবিক সহায়তা তুলে দেন। এ সময় উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. আরিফুল ইসলাম, উপজেলা বিএনপির সভাপতি খন্দকার জাহাঙ্গীর আলম রুবেল, সাধারণ সম্পাদক কাজী লিয়াকত, শহর বিএনপির সভাপতি মো. খালিদ হাসান উথান, সাধারণ সম্পাদক মো. চান মিয়াসহ গোপালপুর পৌর ও উপজেলা বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া উপজেলার বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীরাও অনুষ্ঠানে অংশ নেন। অনুষ্ঠানে দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত ও অসচ্ছল পরিবারের মধ্যে সরকারি বরাদ্দের নগদ অর্থ, ঢেউটিন ও শুকনা খাবার বিতরণ করা হয়। সহায়তা পেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যরা স্বস্তি প্রকাশ করেন।

সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

স্থানীয় সংবাদ

সব খবর

সেভ লাইফের উদ্যোগে ৫৬৫০-এর বেশি রক্তদান করোনাকালে ৫০০-এর অধিক পরিবারে খাদ্য সহায়তা

গোপালপুর (টাঙ্গাইল) উপজেলা প্রতিনিধি: এক ব্যাগ রক্ত কখনো কখনো হয়ে ওঠে একটি মানুষের বেঁচে থাকার শেষ ভরসা। জরুরি মুহূর্তে যখন স্বজনদের মধ্যে রক্তের সন্ধান মেলে না, তখনই মানুষের পাশে দাঁড়ান একদল স্বেচ্ছাসেবী। রক্তের প্রয়োজনে দিন-রাত ছুটে চলা এমনই একটি সংগঠন সেভ লাইফ গোপালপুর ব্লাড ডোনার এসোসিয়েশন। অরাজনৈতিক ও স্বেচ্ছাসেবী এ সংগঠনটি ২০১৮ সালের ৫ মে যাত্রা শুরু করে। প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান মো. তামজিদের নেতৃত্বে প্রতিষ্ঠার পর থেকে সংগঠনটির উদ্যোগে এ পর্যন্ত ৫ হাজার ৬৫০টিরও বেশি রক্তদান সম্পন্ন হয়েছে বলে সংগঠনটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। প্রয়োজন অনুযায়ী রক্তদানের এ কার্যক্রম এখনো অব্যাহত রয়েছে। সেভ লাইফের কার্যক্রম শুধু রক্তদানের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। মানুষের সংকটময় সময়ে পাশে দাঁড়ানোর অংশ হিসেবে করোনাভাইরাস মহামারির কঠিন সময়েও সংগঠনটি বিভিন্ন মানবিক উদ্যোগ গ্রহণ করে। ওই সময়ে ৫০০টিরও বেশি পরিবারের মধ্যে খাদ্য সহায়তা পৌঁছে দেওয়া হয় বলে সংগঠনটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। সংগঠনের স্বেচ্ছাসেবীরা জানান, রক্তের প্রয়োজনের খবর পাওয়ার পর যত দ্রুত সম্ভব রক্তদাতা খুঁজে বের করে রোগীর স্বজনদের সঙ্গে যোগাযোগ করাই তাদের অন্যতম প্রধান কাজ। অনেক সময় গভীর রাতেও জরুরি রক্তের সন্ধানে ছুটতে হয় তাদের। সেভ লাইফের সঙ্গে যুক্ত স্বেচ্ছাসেবীদের ভাষ্য, মানুষের বিপদের সময় পাশে দাঁড়ানোই তাদের মূল উদ্দেশ্য। কোনো ধরনের প্রচার-প্রচারণার প্রত্যাশা না রেখে প্রয়োজনের মুহূর্তে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেন তারা। একজন রক্তদাতা হয়তো কাউকে ব্যক্তিগতভাবে চেনেন না; কিন্তু তার দেওয়া রক্তই কোনো অপরিচিত মানুষের জীবন রক্ষা করতে পারে—এই মানবিক সম্পর্ককে সামনে রেখেই সংগঠনটির কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। সংগঠনটির কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করতে প্রয়োজনীয় সহযোগিতার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে সেভ লাইফ। বিশেষ করে জরুরি সময়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছানো, রক্তদাতা ও রোগীর স্বজনদের মধ্যে সমন্বয়, রক্ত সংগ্রহ ও অন্যান্য ব্যবস্থাপনার জন্য সাংগঠনিক সক্ষমতা বাড়ানো প্রয়োজন বলে জানিয়েছে সংগঠনটি। এ জন্য গোপালপুর-ভূঞাপুরের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আব্দুস সালাম পিন্টুসহ সমাজের বিত্তবান ও সামর্থ্যবান ব্যক্তিদের সহযোগিতা কামনা করেছে সেভ লাইফ। সংগঠনটির প্রত্যয়—“আমরা আছি, আমরা থাকব মানুষের পাশে, ইনশাআল্লাহ।” রক্তদানের পাশাপাশি দুর্যোগ ও সংকটের সময়ে মানুষের পাশে থাকার এ কার্যক্রমকে আরও বিস্তৃত করতে সমাজের সর্বস্তরের মানুষের সহযোগিতা প্রত্যাশা করছে সেভ লাইফ গোপালপুর ব্লাড ডোনার এসোসিয়েশনের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান: মো. তামজিদ, যোগাযোগ: ০১৭৬৩২৭৫৭১০।

খেলাধূলা

সব খবর

ফ্রান্সকে প্রথম সেমি ফাইনালে হারিয়ে ফাইনালে স্পেন

স্পোর্টস রিপোর্ট।। ফ্রান্সকে প্রথম সেমিফাইনালে হারিয়ে ফাইনালে উঠলো স্পেন। ফ্রান্সের স্বপ্ন ছিল তারা ফাইনাল খেলবে কিন্তু তখন সামনে তারা ছিল অসহায়। উল্টো দাপট দেখাল বর্তমান ইউরোপ চ্যাম্পিয়নরা। ডালাস স্টেডিয়ামে তারা ২-০ গোলে ফ্রান্সকে হারিয়ে ১৬ বছর পর ফাইনালে উঠল। ২০১০ সালের পর প্রথমবার শিরোপা নির্ধারণী মঞ্চে তারা। সেমিফাইনালের আগে ৬ ম্যাচ খেলে ১৬ গোল দেওয়া ফ্রান্স এদিন শুরু থেকে অস্বস্তিতে ছিল। চলতি আসরে কোয়ার্টার ফাইনালের আগে পর্যস্ত ক্লিনশিট ধরে রাখা স্পেন তাদের বক্সে ছিল অপ্রতিরোধ্য। ফ্রান্সকে বক্সের মধ্যে সুবিধা করতে দেয়নি তাদের রক্ষণভাগ ও গোলকিপার। বিশেষ করে ডিফেন্ডার মার্ক কুকুরেয়া দারুণ নৈপুণ্য দেখান। কিলিয়ান এমবাপে কয়েকবার হুমকি হয়ে দাঁড়ালেও তার কারণে শট নিতেই পারেননি। আর গোলকিপার উনাই সিমন ছিল অবিশ্বাস্য। তিনটি সেভ করার পাশাপাশি বক্সের বাইরে গিয়েও ফ্রান্সের আক্রমণ নস্যাৎ করে দিয়েছেন তিন। নবম মিনিটে ওলমো ফ্রান্সের বক্সের সামনে ফ্রি কিক আদায় করেন। বায়েনা কিক নেন। কিন্তু রক্ষণদেয়ালে আঘাত করে বল। ফ্রান্স দারুণ সুযোগ পেয়েছিল ১৪ মিনিটে। কাউন্টার অ্যাটাক থেকে এমবাপে দ্রুত বল নিয়ে বক্সে ঢুকেছিলেন। তার সামনে কেবল পোরো ও গোলকিপার ছিলেন। কুবারসি ও লাপোর্তে তাদের পজিশনে থেকে এমবাপেকে রুখে দেন। হাইড্রেশন ব্রেকের আগে এগিয়ে যায় স্পেন। লামিন ইয়ামালকে ফাউল করলেন দিনিয়ে। ডিবক্সের মধ্যে স্পেন তারকাকে ফেলে দিয়ে পেনাল্টি পায় লা রোজারা। তারপর মিকেল ওয়ারসাবালের কিকে এগিয়ে গেল তারা। ফ্রান্স ২৩তম মিনিটে পিছিয়ে পড়ে। ২০ মিনিটে স্পেন পেনাল্টি পায়। কুকুরেয়ার বক্সের মধ্যে বাড়ানো ক্রস দিনিয়ে বুক দিয়ে নিয়ন্ত্রণে নিতে চেয়েছিলেন। কিন্তু এই লেফটব্যাক ব্যর্থ হন। তার সামনে ছিল ইয়ামাল। তাকে ফাউল করে বসেন। রেফারি দ্রুত পেনাল্টির বাঁশি বাজান। বিশ্বকাপ ইতিহাসে তৃতীয় সর্বকনিষ্ঠ খেলোয়াড় হিসেবে পেনাল্টি আদায় করলেন ১৯ বছর ও ১ দিনের ইয়ামাল। ওয়ারসাবাল নেন পেনাল্টি কিক। রিয়াল সোসিয়েদাদ তারকার শট ডানকোণা দিয়ে নেন। ফরাসি কিপার মাগনিয়ঁ ঠিক দিকেই ডাইভ দিয়েছিলেন। কিন্তু বল তার নাগালে ছিল না। জালে জড়ায় বল। পিছিয়ে পড়ার পর দলের সেন্টার ব্যাক সালিবা ইনজুরি নিয়ে মাঠ ছাড়লে তাদের বিপদ আরও বাড়ে। ২৯তম মিনিটে খেলোয়াড় বদল করতে বাধ্য হন দিদিয়ের দেশম। ম্যাক্সেন্স লাক্রোয়া মাঠে নামেন। ৩৬ মিনিটে ফ্রান্সকে আরেকবার কাঁপিয়ে দেয় স্পেন। দূরপাল্লার একটি ক্রস নিয়ন্ত্রণে নেন বায়েনা। মাইগনান তাকে রুখে দিতে চেয়েছিলেন। কিন্তু স্প্যানিশ ফরোয়ার্ড শট নিতেই অফসাইডের বাঁশি বাজে। পরের মিনিটে স্পেনের বক্সের বাইরে থেকে নেওয়া বারকোলার ডানপায়ের বাঁকানো শট গোলবারের অনেক উপর দিয়ে যায়। তিন মিনিট পর স্পেন আরেকটি সুযোগ তৈরি করে। ওলমোর সঙ্গে ওয়ান-টু পাস করেন ইয়ামাল। তারপর ওলমোর ব্যাকহিল থেকে ইয়ামালের পাসে বল পান রুইজ। কিন্তু তার শট গোলবার ঘেঁষে যায়। ৪৩ মিনিটে ফ্রান্স চমৎকার সুযোগ পেয়েছিল। কিন্তু এমবাপেকে বল পায়েই নিতে দেননি সিমন। স্প্যানিশ কিপার দ্রুত বক্সের বাইরে এসে বল ক্লিয়ার করেন। তাতে ১-০ গোলে এগিয়ে থেকে বিরতিতে যায় স্পেন। এক ঘণ্টা না যেতেই দ্বিতীয়বার ফ্রান্সের জালে বল জড়ায় স্পেন। ডালাসে সেমিফাইনালে ৫৮ মিনিটে দ্বিতীয় গোল করল ২০১০ সালের চ্যাম্পিয়নরা। দানি ওলমো কাউন্টার অ্যাটাকে প্রথম সুযোগটি নষ্ট করেন এবং ওইয়ারজাবালকে বল পাস দিয়ে গোল দেওয়ার মতো পজিশনে পাঠাতে ব্যর্থ হন। তবে বলটি শেষ পর্যন্ত পেড্রো পোরোর কাছে ফিরে আসে, যিনি ওলমোর সাথে ওয়ান-টু খেলে মাগনিয়ঁকে পরাস্ত করে বল জালে জড়ান। তিন মিনিট পর একক চেষ্টায় ইয়ামাল তৃতীয়বার ফ্রান্সের জালে বল ঠেলে দেন। কিন্তু গোলটি উদযাপনের আগেই বাতিল হয় লাইন্সম্যান অফসাইডের পতাকা ওড়ালে। শেষ ডিফেন্ডার দিনিয়ের চেয়ে কয়েক মিলিমিটার এগিয়ে ছিলেন বার্সা তারকা। ৬৮ মিনিটে বক্সের প্রান্ত থেকে নেওয়া এমবাপের শট কুকুরেয়া ব্লক করেন। ৮০ মিনিটে আরেকটি গোলের বেশ কাছে ছিল স্পেন। ওয়ারসাবালের বদলি নামার কয়েক মিনিট পরই ফেরান তোরেসের একটি হেড গোলবারের পাশ দিয়ে যায়। শেষ ১০ মিনিটে ফ্রান্স মুহুর্মুহু আক্রমণ চালান। কিন্তু গোলকিপার সিমন ও ডিফেন্ডার কুকুরেয়ার বাধায় সফল হয়নি তারা। ৮২ মিনিটে ভুল করে বক্সের বাইরে চলে আসেন বল ক্লিয়ার করতে। ওই সময় দুয়ের কিক ফের পেছনে সরে এসে বক্সের মধ্যে ব্লক করেন স্পেন কিপার। পরের মিনিটে হার্নান্দেজকে ঠেকান তিনি। ৮৯ মিনিটে এমবাপের শট গোলবারের ওপর দিয়ে যায়। পরের মিনিটে ফ্রান্সের এই তারকার একটি শট নিজের পেনাল্টি বক্সের মধ্যে থেকে ক্লিয়ার করেন কুকুরেয়া। আগামী ১৯ জুলাই নিউইয়র্কের নিউজার্সিতে হবে ফাইনাল। ইংল্যান্ড অথবা আর্জেন্টিনাকে প্রতিপক্ষ হিসেবে পাবে স্পেন। অবশ্য ফ্রান্সের বিশ্বকাপ শেষ হয়ে যায়নি। তারা ১৮ জুলাই তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচ খেলবে দ্বিতীয় সেমিফাইনালে পরাজিত দলের সঙ্গে।

মিডিয়া

সব খবর

এক সিনেমাতেই তিন নায়িকা শাকিবের

শুক্রবার, ২২ আগস্ট ২০২৫

আন্তর্জাতিক

সব খবর

ঢাকা দিল্লির সম্পর্ক ইতিহাসের তলানীতে

বিশেষ রিপোর্ট।। দিল্লির মাটিতে বসে হাসিনার দেয়া বক্তব্যকে কেন্দ্র করে ভারতের বিরুদ্ধে নজিরবিহীন কঠোর ভাষায় ঢাকার কূটনৈতিক প্রতিবাদ কেবল একটি সাময়িক বিক্ষোভ নয়; বরং ২০২৪-পরবর্তী বাংলাদেশের রাজনীতি এবং ভারতের সাথে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের নতুন গতিপথের তলানির স্পষ্ট ইঙ্গিত বহন করে। দিল্লির মাটিতে বসে হাসিনার দেয়া বক্তব্যকে কেন্দ্র করে ভারতের বিরুদ্ধে নজিরবিহীন কঠোর ভাষায় ঢাকার কূটনৈতিক প্রতিবাদ কেবল একটি সাময়িক বিক্ষোভ নয়; বরং ২০২৪-পরবর্তী বাংলাদেশের রাজনীতি এবং ভারতের সাথে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের নতুন গতিপথের এক ভয়াবহ স্পষ্ট ইঙ্গিত বহন করে। ঢাকার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এই প্রতিবাদে ভাষার পরিবর্তন ইঙ্গিতবহ। পূর্বে ব্যবহৃত ‘জুলাই অভ্যুত্থান’ শব্দটির পরিবর্তে একাধিকবার ‘জুলাই বিপ্লব’ শব্দটি ব্যবহার করেছে। আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে ‘অভ্যুত্থান’ বলতে কেবল সরকার পতনকে বুঝালেও ‘বিপ্লব’ শব্দটির মাধ্যমে একটি স্থায়ী ও সফল রাজনৈতিক রূপান্তরকে নির্দেশ করা হয়। এর মাধ্যমে বাংলাদেশ কূটনৈতিক স্তরে এটি স্পষ্ট করতে চায় যে, ২০২৪-এর পরিবর্তন একটি নতুন রাষ্ট্রীয় রূপরেখা তৈরি করেছে। এই পার্থক্যটি বেশ গুরুত্বপূর্ণ। ‘অভ্যুত্থান’ বলতে সাধারণত বিদ্যমান কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে জনগণের বিদ্রোহকে বুঝায়। আর ‘বিপ্লব’ একটি সফল রাজনৈতিক রূপান্তরকে নির্দেশ করে, যা একটি নতুন ব্যবস্থার জন্ম দেয়। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিটি নয়াদিল্লিতে দেয়া একটি মাত্র প্রচার মাধ্যমের সংবাদের চেয়েও অনেক বেশি কিছু। এটি স্পষ্ট করে যে, শেখ হাসিনাকে ঘিরে চলা বিতর্ক এখন বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিচয়, তার কূটনৈতিক ভাষা এবং ভারতের সাথে সম্পর্ক পুনর্গঠনের শর্তাবলিকে নতুন করে সংজ্ঞায়িত করার একটি সামগ্রিক প্রচেষ্টার সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে গেছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বাংলাদেশকে আর কখনো কোনো দেশের ‘ক্লাইন্ট স্টেট’ (অধীনস্থ রাষ্ট্র) না হতে দেয়ার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়েছে। কূটনৈতিক নথিতে এ ধরনের শব্দের প্রয়োগ অত্যন্ত বিরল। এর মাধ্যমে ভারতের ওপর দীর্ঘদিনের কথিত অতিরিক্ত রাজনৈতিক নির্ভরতার অবসান ঘটিয়ে কৌশলগত স্বায়ত্তশাসন এবং সমতার ভিত্তিতে সম্পর্ক প্রতিষ্ঠার বার্তাই দেয়া হয়েছে। সরাসরি ভারতের জবাবদিহিতা বিবৃতিতে শেখ হাসিনাকে ‘পলাতক মানবতাবিরোধী অপরাধী’ হিসেবে আখ্যা দেয়ার পাশাপাশি, এমন বক্তব্য প্রদানের সুযোগ দেয়ার জন্য ভারতের ভূমিকাকেও কাঠগড়ায় দাঁড় করানো হয়েছে। সেইসাথে ২০১৩ সালের প্রত্যর্পণ চুক্তির অধীনে হাসিনাকে ফেরত দেয়ার অনুরোধে ভারতের সাড়া না দেয়াকে কেন্দ্র করে দুই দেশের মধ্যকার বিশ্বাসযোগ্যতার সঙ্কট আরো প্রকট হয়েছে। ভবিষ্যৎ দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক প্রতিবাদ সত্ত্বেও বাংলাদেশ ভারতের সাথে একটি গঠনমূলক ও পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট সম্পর্ক বজায় রাখার ইচ্ছা ব্যক্ত করেছে। ভৌগোলিক অবস্থান ও অর্থনৈতিক বাস্তবতার কারণে বাণিজ্য, ট্রানজিট ও সীমান্ত নিরাপত্তার মতো ক্ষেত্রগুলোতে বাস্তবমুখী সহযোগিতা অব্যাহত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে রাজনৈতিক ক্ষেত্রে দুই দেশের সম্পর্ক এখন এক নতুন ও কঠিন পর্বে প্রবেশ করেছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এই কঠোর বার্তা স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, বাংলাদেশের নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতা ও সার্বভৌম মর্যাদাকে মেনে নিয়েই ভারতকে ঢাকার সাথে আগামী দিনের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক এগিয়ে নিতে হবে। হাসিনার বক্তব্য নিয়ে ভারতের প্রতি বাংলাদেশের এ যাবৎকালের সবচেয়ে স্পষ্ট এ বার্তায় ঢাকা চায় ২০২৪-পরবর্তী রাজনৈতিক বাস্তবতাকে কেবল অভ্যন্তরীণ পরিবর্তন হিসেবে না দেখে, একটি আরো জোরালো ও সোচ্চার পররাষ্ট্র নীতির ভিত্তি হিসেবে বিবেচনা করা হোক। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় হাসিনাকে ‘পলাতক ছআদণ্ডপ্রাপ্ত গণহত্যাকারী’, ‘দণ্ডপ্রাপ্ত গণহত্যাকারী’ এবং একটি ‘মাফিায়া চক্রের’ প্রধান হিসেবে বর্ণনা করেছে। একই সাথে তার সংবাদমাধ্যমে উপস্থিতিকে ‘বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বের প্রতি এক চরম আঘাত’ এবং যাকে তারা বারবার ‘জুলাই বিপ্লব’ হিসেবে উল্লেখ করেছে, তার ‘শহীদদের প্রতি এক গুরুতর অপমান’ হিসেবে অভিহিত করেছে। কোনো রাজনৈতিক নেতার বক্তৃতায় এমন পরিভাষা ব্যবহার করা হলে তাকে রাজনৈতিক 66৬৫5৬৬6বক্তব্য বলে এড়িয়ে যাওয়া যায়; কিন্তু পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে জারি করা একটি অফিসিয়াল বিবৃতিতে যখন এটি বারবার ফিরে আসে, তখন তা অনেক বেশি তাৎপর্য বহন করে, কারণ কূটনৈতিক যোগাযোগ একটি রাষ্ট্রের অবস্থানের প্রতিনিধিত্ব করে। অন্য একটি বাক্য এর ভূরাজনৈতিক তাৎপর্যের কারণে আলাদাভাবে নজর কাড়ে। বিবৃতিতে বলা হয়, ‘আমাদের দেশের মানুষ দৃঢ়ভাবে সংকল্পবদ্ধ যে আমাদের জাতি আর কখনোই ফ্যাসিবাদের অন্ধকার দিনে ফিরে যাবে না এবং বাংলাদেশ কখনোই একটি ‘ক্লাইন্ট স্টেট’ (অধীনস্থ বা সেবাদাস রাষ্ট্র) হবে না।’ অফিসিয়াল কূটনৈতিক নথিপত্রে ‘ক্লাইন্ট স্টেট’ শব্দটির ব্যবহার খুবই বিরল। আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে এটি সাধারণত এমন একটি দেশকে বোঝায় যার নীতিগুলো আরো শক্তিশালী কোনো বাহ্যিক শক্তি দ্বারা ব্যাপকভাবে প্রভাবিত বা পরিচালিত হয়। বাংলাদেশে শেখ হাসিনা সরকারের সমালোচকরা প্রায়ই সাবেক এই প্রশাসনকে রাজনীতি ও কূটনীতির ক্ষেত্রে ভারতের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীল হয়ে পড়ার অভিযোগে অভিযুক্ত করতেন। বিবৃতিতে ভারতের সাথে সম্পর্ক 0পরিচালনায় নির্দেশক নীতি হিসেবে ‘সার্বভৌম সমতা’, ‘পারস্পরিক 0শ্রদ্ধা’, ‘অনধিকার চর্চা’ এবং ‘জাতীয় মর্যাদা’র কথা বারবার স্মরণ করিয়ে দেয়ার মাধ্যমে এ ব্যাখ্যাটি আরো জোরদার হয়। মন্ত্রণালয় জানিয়েছে যে, ঢাকা এ ধরনের অনুষ্ঠান আয়োজনের অনুমতি দেয়ার সম্ভাব্য পরিণতি সম্পর্কে নয়াদিল্লিকে আগে থেকেই সতর্ক করেছিল, কিন্তু তা সত্ত্বেও ভারত এর অনুমতি দিয়েছে। বিবৃতিটিতে ২০১৩ সালের প্রত্যর্পণ চুক্তির অধীনে হাসিনাকে ফেরত দেয়ার বিষয়ে বাংলাদেশের বারবার করা অনুরোধে সাড়া দিতে নয়াদিল্লির ব্যর্থতার বিষয়টি যুক্ত করা হয়। এর মাধ্যমে এ ঘটনার দায়ভার কেবল সাবেক প্রধানমন্ত্রীর ওপরই নয়, বরং তাকে রাজনৈতিক ক্ষেত্র প্রস্তুত করে দেয়ার জন্য ভারতের ওপরও বর্তানো হয়েছে। এটি হাসিনাকে কেন্দ্র করে থাকা বিতর্ককে একটি সাধারণ দ্বিপক্ষীয় মতপার্থক্য থেকে দুই প্রতিবেশীর মধ্যকার একটি বড় ধরনের বিশ্বাসযোগ্যতার প্রশ্নে পরিণত করেছে। বিবৃতিতে সম্পর্কের পুরোপুরি অবনতির কথা বলা হয়নি। প্রকৃতপক্ষে, এটি ভারতের সাথে একটি ‘গঠনমূলক, পারস্পরিক লাভজনক এবং ভবিষ্যমুখী সম্পর্ক’ বজায় রাখার জন্য বাংলাদেশের ইচ্ছার কথা পুনর্ব্যক্ত করেছে। তবে এতে এটাও স্পষ্ট করা হয়েছে যে, ঢাকার দৃষ্টিকোণ থেকে এ ধরনের সম্পর্ক পুনর্গঠন হাসিনাকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া প্রশ্ন থেকে আলাদা হতে পারে না। বাণিজ্য, কানেক্টিভিটি, সীমান্ত ব্যবস্থাপনা এবং নিরাপত্তার ক্ষেত্রে দুই দেশের বাস্তবসম্মত সহযোগিতা অব্যাহত থাকার সম্ভাবনাই বেশি, কারণ সম্পর্ক বজায় রাখার ক্ষেত্রে উভয় পক্ষেরই শক্তিশালী কৌশলগত স্বার্থ রয়েছে। তবে রাজনৈতিকভাবে এ সর্বশেষ বিবৃতি ইঙ্গিত দেয় যে, সম্পর্কটি একটি কঠিনতর পর্বে প্রবেশ করছে। এতে স্পষ্ট হয় প্রমাণিত হয় ঢাকা দিল্লি সম্পর্ক ইতিহাসের তলা নিতে অবস্থান করছে।

ছবির গ্যালারি

আরও দেখুন

সেভ লাইফের উদ্যোগে ৫৬৫০-এর বেশি রক্তদান করোনাকালে ৫০০-এর অধিক পরিবারে খাদ্য সহায়তা