আব্দুল জলিল ( মধুপুর) টাঙ্গাইল টাঙ্গাইলের মধুপুর উপজেলা পেল এক অনন্য উপহার-দেশের অন্যতম আধুনিক 'মডেল মসজিদ ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্র'। মনোজ্ঞ অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে গত কাল স্থাপনাটির শুভ উদ্বোধন করা হয়, যা কেবল ইবাদতের স্থান নয়, বরং জ্ঞান ও সংস্কৃতি চর্চার কেন্দ্রে পরিণত হলো। এ মডেল মসজিদ ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের শুভ উদ্বোধন করেন মধুপুরের কর্মবীরখ্যাত উপজেলা নির্বাহী অফিসার জুবায়ের হোসেন । তিনি তার বক্তব্যে উল্লেখ করেন, "এই মসজিদগুলো কেবল নামাজ পড়ার স্থান নয়, বরং ইসলামের মূল চেতনা-জ্ঞান, ন্যায় ও সামাজিক ঐক্য-ছড়িয়ে দেওয়ার কেন্দ্র হিসেবে কাজ করবে। উক্ত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্বে করেন উপজেলা মসজিদের পেশ ইমাম মোয়াজ্জেম হোসেন বুলবুল। অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা রাজিব আল রানা, গণপূর্ত বিভাগের সহকারী প্রকৌশলী ইমরান হোসেন, মধুপুর শহীদ স্মৃতি উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সাবেক অধ্যক্ষ বজলুর রশিদ খান চুন্নু, মধুপুর উপজেলা বিএনপির নেতা আ. লতিফ খান পান্না, রিজভী আহমেদ, স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, আলেম-ওলামা এবং বিপুল সংখ্যক সাধারণ ধর্মপ্রাণ মানুষ। মডেল মসজিদটি স্থাপত্যশৈলীতে আধুনিকতার সঙ্গে ঐতিহ্যবাহী ইসলামিক নকশার চমৎকার মেলবন্ধন ঘটানো হয়েছে। এই কেন্দ্রটি ইসলামিক ফাউন্ডেশনের তত্ত্বাবধানে নির্মিত এই মডেল মসজিদটিতে শুধুমাত্র নামাজ আদায়ের সুযোগই নয়, বরং ইসলামিক জ্ঞানচর্চা ও সামাজিক কার্যক্রম পরিচালনার জন্যেও বিশেষ ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। কেন্দ্রটিতে পুরুষ ও মহিলাদের জন্য আলাদা ওযু ও নামাজের জায়গা, হজ্জযাত্রী ও পর্যটকদের জন্য উন্নতমানের আবাসন, ইমাম-মুয়াজ্জিনদের প্রশিক্ষণ, ইসলামিক বই বিক্রয় কেন্দ্র, ধর্মীয় গবেষণা ও দীনি দাওয়াত কার্যক্রমের, শিশু ও গণশিক্ষার, নারী ও পুরুষের জন্য স্বতন্ত্র পাঠাগারের ব্যবস্থা রয়েছে। বুক শেল্ফ মধুপুরবাসীর দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণে এই মডেল মসজিদটি এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে। স্থানীয় আলেম-ওলামা ও শিক্ষাবিদরা আশা প্রকাশ করেন যে, এই সাংস্কৃতিক কেন্দ্রটি সমাজে ইসলামের উদার ও মানবিক দিক তুলে ধরতে এবং জঙ্গিবাদ ও কুসংস্কার দূর করতে কার্যকরী ভূমিকা রাখবে। তিনি আরো বলেন- "এই মডেল মসজিদ মধুপুরের সৌন্দর্য ও মর্যাদা বহুগুণে বৃদ্ধি করেছে। আমরা নিশ্চিত, এটি এলাকার যুবসমাজকে আলোকিত করবে।"