গোপালপুর (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি: টাঙ্গাইলের গোপালপুর উপজেলায় নেশাজাতীয় বা বিষাক্ত দ্রব্য মেশানো লবণ দিয়ে রান্না করা খাবার খেয়ে একই পরিবারের দুই শিশুসহ সাতজন অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। অসুস্থদের মধ্যে পরিবারের প্রধান আনোয়ার হোসেনের অবস্থা গুরুতর বলে জানা গেছে। রোববার (২৩ আগস্ট) সকালে উপজেলার নগদাশিমলা ইউনিয়নের বাইশকাইল তালুকদারপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
আনোয়ার হোসেনের ভাতিজি মনিরা জানান, সকালে পরিবারের সদস্যরা নাশতা খাওয়ার পর একে একে সবাই অসুস্থ হয়ে পড়েন। বমি ও পাতলা পায়খানার পর পরিবারের সদস্যদের কয়েকজন অচেতন হয়ে পড়েন। অসুস্থরা হলেন—পরিবারের প্রধান আনোয়ার হোসেন (৬০), তাঁর স্ত্রী আনোয়ারা খাতুন (৫৫), তাঁদের তিন কন্যা আরিফা বেগম (৩৫), হামিদা খাতুন আকুল (৩০) ও অনামিকা খাতুন (২৫) এবং আরিফা বেগমের দুই সন্তান রওশান (৯) ও রায়েতা (৬)। পরে প্রতিবেশীরা তাদের অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করে গোপালপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গিয়ে ভর্তি করেন। বর্তমানে তারা সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
অসুস্থ আরিফা বেগম জানান, রান্নাঘরে রাখা লবণের পাত্রে শত্রুতাবশত কেউ বিষাক্ত বা নেশাজাতীয় কোনো দ্রব্য মিশিয়ে থাকতে পারে বলে তাদের ধারণা। ওই লবণ দিয়ে রান্না করা খাবার খাওয়া এবং খাবারের সঙ্গে অতিরিক্ত লবণ খাওয়ার পর পরিবারের সবাই অসুস্থ হয়ে পড়েন।
গোপালপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. খাইরুল ইসলাম জানান, একই পরিবারের সাতজনকে রোববার দুপুরে অচেতন অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তাদের চিকিৎসা চলছে। লবণের সঙ্গে কোনো নেশাজাতীয় দ্রব্য মেশানো হয়ে থাকতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।
গোপালপুর থানার পুলিশ খবর পেয়ে হাসপাতালে গিয়ে অসুস্থদের খোঁজখবর নিয়েছে। এ ঘটনায় অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
